بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

জীবনের যেকোনো সমস্যা সমাধানে
ইসলামিক রুকাইয়া এবং দুআ কবুল হওয়ার গাইড

কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে — সকল দুআ, সময়, পদ্ধতি ও শর্তাবলী

🔍

আমাদের জীবনে চলার পথে প্রতিনিয়ত কত বাধা এবং কত বিপর্যয় আসে — প্রতিনিয়ত এসবের মুখোমুখি হয়ে মোকাবিলা করেই আমাদের বাঁচতে হয়। কখনও আসে শারীরিক অসুস্থতা, কখনও মানসিক অস্থিরতা কিংবা কখনও বা আর্থিক অসংগতি যেমন ব্যবসায়িক মন্দা, চাকুরী না পাওয়া, বেকারত্ব, হঠাৎ অভাব কিংবা বিপর্যয়। তখন বিশ্বাসী মন এক নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে ফিরে — যেখানে সে পরম নির্লিপ্ততায় নিজেকে উৎসর্গ করে এক আল্লাহর নিকট সপে দিতে পারবে

এই গাইডে আল্লাহর নিকট দোয়া কিভাবে করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হয়, কখন করতে হয়, কোন শর্ত আছে কিনা এবং সমস্ত দুআ একত্রিত করা হয়েছে — কুরআন ও সহীহ হাদীসের রেফারেন্স সহ।

📌 দ্রষ্টব্য: Noor Application এর 'দুআ হাব' এবং 'মুনাজাত' পেজে আরো বিস্তারিত পাওয়া যাবে। মূল অ্যাপ: Noor - Islamic Ruqyah & Dua
💬 একটি বিশেষ বার্তা

সবিশেষ একটি কথা — যে যেমন ধর্মে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী হউন — এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার মানসিকতায় "বিশ্বাস" এর গুরুত্ব অপরিসীম। উদাহরণস্বরূপ আপনাকে যদি ১০০ তলা বিল্ডিং এর রেলিং এর ওপর হাটতে বলা হয় তবে অবশ্যই আপনি ভয় পাবেন — কিন্তু সেই আপনাকেই যদি মাত্র ১ মিটার উচুতে হাটতে বলা হয় তবে আত্মবিশ্বাস থাকে যে আপনি পারবেন। তেমনি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও বিশ্বাস রেখে এগিয়ে গেলে সফলতার সাথে সাথে মানসিক সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

✨ শুভকামনা রইলো ✨

দুআ কবুল হওয়ার শর্তাবলী

ইসলামে দুআ কবুল হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত ও আদব রয়েছে। কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত শর্তগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • 🤲
    শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে দোয়া করা দোয়া কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয়, সরাসরি আল্লাহর কাছে করা উচিত। আল্লাহ বলেন: "আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আমি তো কাছেই আছি। দোয়াকারী যখন দোয়া করে, আমি তার দোয়া কবুল করি।"
    📖 সূরা আল-বাকারা ২:১৮৬
  • 💚
    হালাল রিজিক — জীবিকার উৎস নিশ্চিত করা রুজি যদি হারাম হয়, তাহলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। রাসুল ﷺ বলেছেন: "হে মানুষ! আল্লাহ পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন।"
    📖 সহীহ মুসলিম, ১০১৫
  • 🌟
    বিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয় রেখে দোয়া করা মনে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে যে আল্লাহ দোয়া শুনছেন ও সাড়া দেবেন। রাসুল ﷺ বলেন: "দৃঢ় মনে দোয়া করো এবং নিশ্চিত থাকো যে আল্লাহ কবুল করবেন।"
    📖 তিরমিযী, ৩৪৭৯
  • 🔁
    পাপ থেকে তওবা করা ও গুনাহ ত্যাগ করা পাপ দোয়া কবুলে বাধা হয়। খাঁটিভাবে তওবা করলে আল্লাহ দোয়া গ্রহণ করেন। "নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।"
    📖 সূরা আল-বাকারা ২:২২২ | সূরা আন-নিসা ৪:১৭
  • 👨‍👩‍👦
    রিশতার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না বলে হাদীসে বর্ণিত। পরিবার ও আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখুন।
    📖 সহীহ বুখারী, মুসলিম
  • 🙏
    দোয়ার আগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও দরুদ পাঠ আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করুন, তারপর নবী ﷺ-এর উপর দরুদ পাঠ করুন, তারপর দোয়া করুন। "আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ ছাড়া দোয়া অসম্পূর্ণ।"
    📖 তিরমিযী, ৩৪৭৬ | সূরা ইবরাহীম ১৪:৭
  • 🕌
    ওযু অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা পবিত্র অবস্থায়, কিবলামুখী হয়ে, বিনয়ের সাথে হাত তুলে দোয়া করা সুন্নত। "আল্লাহ লজ্জাশীল ও দাতা। বান্দা হাত তুললে তিনি তা শূন্য হাতে ফেরাতে লজ্জাবোধ করেন।"
    📖 আবু দাউদ, ১৪৮৮ | তিরমিযী, ৩৫৫৬
  • 😢
    বিনয় ও আর্তিভরা মন নিয়ে দোয়া করা ভয় ও আশা দুটি মিলিয়ে, কান্নার সাথে, আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হয়ে দোয়া করা। "তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনয়ের সাথে ও গোপনে।"
    📖 সূরা আল-আরাফ ৭:৫৫
  • বিশেষ কবুলযোগ্য সময়ে দোয়া করা শেষ রাতে (তাহাজ্জুদের পর), জুমার দিন আসরের পর, রমাদানে, লাইলাতুল কদরে, সেজদায়, আজান ও ইকামতের মাঝে দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়।
    📖 সহীহ মুসলিম, বুখারী
  • 🚫
    দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়া না করা দোয়া কবুল না হলে হতাশ না হওয়া। আল্লাহ কবুল করেন — হয় এখনই, না হয় পরে, না হয় আখেরাতে। ধৈর্য রাখুন।
    📖 সহীহ বুখারী, ৬৩৪০
  • 💰
    সদকা ও ভালো কাজের সাথে দোয়া করা সদকা দোয়া কবুলের পথ খুলে দেয়। "সদকা বিপদ দূর করে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।"
    📖 সূরা আল-বাকারা ২:২৭২ | তিরমিযী
  • 🌙
    রোজা রেখে দোয়া করা রোজাদারের দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়, বিশেষত ইফতারের সময়। "তিন ব্যক্তির দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না: ইফতারের সময় রোজাদার, ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং মজলুম।"
    📖 তিরমিযী, ৩৫৯৮ | সহীহ মুসলিম
⚠️ দোয়া কবুল হওয়ার প্রতিবন্ধক: হারাম খাওয়া-পরা, গুনাহে লিপ্ত থাকা, আত্মীয়তা ছিন্ন করা, অহংকার, ও দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দোয়া কবুলে বাধা দেয়।
🌅 দৈনন্দিন জীবনের দুআ সমূহ

ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত — প্রতিটি কাজের দুআ

🌄 ঘুম থেকে ওঠার দুআ
ফরয নয়, সুন্নত প্রতিদিন সকালে
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ
Alhamdulillahil-lazi ahyaana ba'da ma amaatana wa ilaihin-nushoor
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যু (ঘুম) দেওয়ার পর আবার জীবিত করেছেন এবং তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।
📖 সহীহ বুখারী, ৬৩১২
কখন পড়বেন: ঘুম থেকে জেগে ওঠার সাথে সাথেই, বিছানায় থাকা অবস্থায়।
🚿 বাথরুমে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ
প্রবেশের সময়
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
Allahumma inni a'udhu bika minal-khubuthi wal-khaba'ith
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি অপবিত্র পুরুষ ও মহিলা জিন থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
📖 সহীহ বুখারী, ১৪২; সহীহ মুসলিম, ৩৭৫
কখন পড়বেন: টয়লেটে ঢোকার আগে বাম পা আগে দিয়ে প্রবেশ করুন এবং এই দুআটি পড়ুন।
غُفْرَانَكَ
Ghufraanak
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই।
📖 আবু দাউদ, ৩০; তিরমিযী, ৭
কখন পড়বেন: টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর ডান পা আগে দিয়ে বের হয়ে এই দুআ পড়ুন।
💧 ওযুর দুআ
ওযু শুরুতেওযু শেষে
بِسْمِ اللَّهِ
Bismillah
অর্থ: আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
📖 আবু দাউদ, ১০১
কখন পড়বেন: ওযু শুরু করার আগে।
أَشْهَدُ أَنْ لَّآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ ، اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ
Ashhadu an laa ilaaha illallaahu wahdahu laa shareeka lah, wa ashhadu anna Muhammadan 'abduhu wa rasuuluh. Allaahummaj'alni minat-tawwaabeena waj'alni minal-mutatahhireen.
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো।
📖 তিরমিযী, ৫৫; ইবনে মাজাহ, ৪৭০
কখন পড়বেন: ওযু সম্পন্ন করার পরপরই।
🍽️ খাবার শুরু ও শেষের দুআ
খাবার শুরুতেখাওয়ার পরে
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ
Bismillahi wa 'ala barakatillah
অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতে (শুরু করছি)।
📖 আবু দাউদ, ৩৭৬৭
কখন পড়বেন: খাবার শুরুর আগে। ভুলে গেলে মাঝখানে মনে পড়লে পড়ুন: بِسْمِ اللهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنِيْ هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ
Alhamdulillahil-lazi at'amani haaza wa razaqanihi min ghayri hawlin minni wa laa quwwah
অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাকে এটি খাইয়েছেন এবং আমার কোনো শক্তি ও ক্ষমতা ছাড়াই আমাকে রিজিক দিয়েছেন।
📖 তিরমিযী, ৩৪৫৮; আবু দাউদ, ৪০২৩
কখন পড়বেন: খাবার শেষ করার পরপরই।
যে এই দুআ পড়বে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে — তিরমিযী
🌙 ঘুমানোর সময়ের দুআ
রাতে শোওয়ার আগে
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
Bismika Allahumma amootu wa ahyaa
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার নামে মরি (ঘুমাই) এবং তোমার নামেই জীবিত হই (জাগি)।
📖 সহীহ বুখারী, ৬৩১৪
কখন পড়বেন: ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে।
اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَبِاسْمِكَ أَمُوتُ
Allahumma bismika ahyaa wa bismika amoot
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার নামে জীবিত আছি এবং তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করব।
📖 সহীহ বুখারী, ৬৩১৫
কখন পড়বেন: ঘুমানোর আগে। পাশাপাশি সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে বুলিয়ে নিন।
৩ বার সূরা ইখলাস + ফালাক + নাস পড়ুন
اَللّٰهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
Allahumma qini 'adhabaka yawma tab'athu 'ibaadak
অর্থ: হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবে সেদিন তোমার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো।
📖 আবু দাউদ, ৫০৪৫; তিরমিযী, ৩৩৯৮
কখন পড়বেন: ঘুমের আগে ডান কাত হয়ে পড়ুন।
৩ বার
😰 দুঃস্বপ্ন দেখলে করণীয় ও দুআ
খারাপ স্বপ্নের পর
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَمِنْ شَرِّ هَذِهِ الرُّؤْيَا
A'udhu billahi minash-shaytanir-rajim wa min sharri hadhihir-ru'ya
অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে এবং এই স্বপ্নের ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।
📖 সহীহ মুসলিম, ২২৬১
কখন পড়বেন: দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠলে বাম দিকে ৩ বার থুথু ফেলুন এবং এই দুআ পড়ুন। কাউকে বলবেন না।
🚪 ঘর থেকে বের হওয়ার দুআ
ঘর থেকে বের হওয়ার সময়
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
Bismillahi tawakkaltu 'alallahi wa laa hawla wa laa quwwata illaa billah
অর্থ: আল্লাহর নামে। আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।
📖 আবু দাউদ, ৫০৯৫; তিরমিযী, ৩৪২৬
কখন পড়বেন: ঘর থেকে বের হওয়ার সময়। এই দুআ পড়লে শয়তান বলে — 'এই ব্যক্তিকে কীভাবে পথভ্রষ্ট করব!'
প্রতিবার বের হওয়ার সময়
🏠 ঘরে প্রবেশের দুআ
ঘরে ঢোকার সময়
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بِسْمِ اللهِ وَلَجْنَا وَبِسْمِ اللهِ خَرَجْنَا وَعَلَى اللهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
Allahumma inni as'aluka khayral mawlaji wa khayral makhraji, bismillahi walajnaa wa bismillahi kharajnaa wa 'alallaahi rabbinaa tawakkalnaa
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি প্রবেশের উত্তম সুযোগ এবং বের হওয়ার উত্তম সুযোগ চাই। আল্লাহর নামে প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে বের হব। আমাদের রব আল্লাহর উপরেই আমরা ভরসা করি।
📖 আবু দাউদ, ৫০৯৬
কখন পড়বেন: ঘরে ঢোকার সময়।
✈️ সফরের দুআ
যানবাহনে উঠলেসফর শুরুতে
سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِيْنَ ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ
Subhaanal-lazi sakhkhara lanaa haaza wa maa kunnaa lahu muqrineen. Wa innaa ilaa rabbinaa lamunqaliboon.
অর্থ: পবিত্র সেই সত্তা যিনি এটিকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন, অথচ আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি রাখতাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের কাছে ফিরে যাব।
📖 সূরা যুখরুফ ৪৩:১৩-১৪ | আবু দাউদ, ২৬০২
কখন পড়বেন: যেকোনো যানবাহনে উঠার পর।
🕌 মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ
মসজিদে ঢোকার সময়বের হওয়ার সময়
اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
Allahumma iftah lee abwaaba rahmatik
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও।
📖 সহীহ মুসলিম, ৭১৩
কখন পড়বেন: মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা আগে দিয়ে প্রবেশ করুন।
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
Allahumma inni as'aluka min fadlik
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ চাই।
📖 সহীহ মুসলিম, ৭১৩
কখন পড়বেন: মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে দিয়ে।
🪞 আয়না দেখার দুআ
اَللّٰهُمَّ أَنْتَ حَسَّنْتَ خَلْقِيْ فَحَسِّنْ خُلُقِيْ
Allahumma anta hassanta khalqi fahassin khuluqi
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার সৃষ্টি সুন্দর করেছ, তাই আমার চরিত্রও সুন্দর করে দাও।
📖 মুসনাদ আহমাদ, ৩৭২৩
কখন পড়বেন: আয়নায় নিজেকে দেখার সময়।
👕 নতুন কাপড় পরার দুআ
اَللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ
Allahumma lakal hamdu anta kasawtaneehi, as'aluka min khayrihi wa khayri ma suni'a lahu, wa a'udhu bika min sharrihi wa sharri ma suni'a lahu
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সকল প্রশংসা। তুমি এটি আমাকে পরিয়েছ। আমি এর কল্যাণ ও যে উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে তার কল্যাণ চাই। আর এর ক্ষতি ও যে উদ্দেশ্যে এটি তৈরি হয়েছে তার ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।
📖 আবু দাউদ, ৪০২০; তিরমিযী, ১৭৬৭
কখন পড়বেন: নতুন জামা পরার সময়।
🤧 হাঁচির দুআ ও জবাব
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ — يَرْحَمُكَ اللَّهُ — يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ
Al-hamdulillah → Yarhamukallah → Yahdiikumullahu wa yuslihu baalakum
হাঁচি দিলে: আলহামদুলিল্লাহ। শুনলে বলুন: ইয়ারহামুকাল্লাহ। হাঁচিদাতা জবাব দেবেন: ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম।
📖 সহীহ বুখারী, ৬২২৪
কখন পড়বেন: হাঁচি দেওয়ার সাথে সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলুন।
🌙 সকাল ও সন্ধ্যার আযকার (অজিফা)

সকালের আযকার ফজরের নামাজের পরে এবং সন্ধ্যার আযকার আসরের নামাজের পরে পড়া উত্তম। এগুলো পড়লে সারাদিন ও সারারাত সুরক্ষিত থাকা যায়।

☀️ সকালের আযকার (সুবহান আযকার)
ফজরের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগে
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
Asbahna wa asbahal mulku lillah, walhamdulillah, laa ilaaha illallaahu wahdahu laa shareekalah, lahul mulku walahul hamdu wa huwa 'alaa kulli shay'in qadeer.
অর্থ: আমরা এবং সমগ্র রাজত্ব আল্লাহর জন্য সকালে প্রবেশ করলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর, প্রশংসা তাঁর, তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
📖 সহীহ মুসলিম, ২৭২৩
কখন পড়বেন: ফজরের পরে, সকালে। (সন্ধ্যায় 'আমসায়না' দিয়ে বলুন)
১ বার সকাল, ১ বার সন্ধ্যা
اَللّٰهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُوْرُ
Allahumma bika asbahna wa bika amsayna wa bika nahya wa bika namootu wa ilaykan-nushoor
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমরা সকালে প্রবেশ করলাম, তোমার নামেই সন্ধ্যায়। তোমার নামেই জীবিত আছি, তোমার নামেই মরব। তোমার কাছেই পুনরুত্থান।
📖 তিরমিযী, ৩৩৯১; আবু দাউদ, ৫০৬৮
কখন পড়বেন: সকালে এই দুআ পড়ুন। সন্ধ্যায় 'আমসায়না' দিয়ে পড়ুন।
اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّآ أَنْتَ
Allahumma anta rabbi laa ilaaha illaa anta, khalaqtani wa ana 'abduka, wa ana 'ala 'ahdika wa wa'dika mas-tata't. A'udhu bika min sharri ma sana't. Aboo'u laka bini'matika 'alayya wa aboo'u bizanbi faghfir lee fa'innahu laa yaghfirudh-dhunuba illaa ant.
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই আমার রব, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমতো তোমার সাথে অঙ্গীকারে আছি। আমার কৃতকর্মের ক্ষতি থেকে তোমার আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করি এবং আমার গুনাহও স্বীকার করি। আমাকে মাফ করো, তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই।
📖 সহীহ বুখারী, ৬৩০৬ — এটি 'সাইয়িদুল ইস্তিগফার'
কখন পড়বেন: সকালে বা সন্ধ্যায় বিশ্বাসের সাথে পড়লে সেদিন মারা গেলে জান্নাতবাসী হবেন — বুখারী।
১ বার সকাল + ১ বার সন্ধ্যা (সাইয়িদুল ইস্তিগফার)
اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنْتَ
Allahumma 'aafinee fi badanee, Allahumma 'aafinee fi sam'ee, Allahumma 'aafinee fi basaree, laa ilaaha illaa ant
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার শরীরে সুস্থতা দাও। হে আল্লাহ! আমার কানে সুস্থতা দাও। হে আল্লাহ! আমার চোখে সুস্থতা দাও। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
📖 আবু দাউদ, ৫০৯০; মুসনাদ আহমাদ
কখন পড়বেন: সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার করে পড়ুন।
৩ বার সকাল + ৩ বার সন্ধ্যা
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
A'udhu bikalimaa-tillaahit-taammaati min sharri maa khalaq
অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির সকল ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।
📖 সহীহ মুসলিম, ২৭০৮
কখন পড়বেন: সন্ধ্যায় ৩ বার পড়লে রাতে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করবে না।
৩ বার সন্ধ্যায়
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
Bismillaahil-lazi laa yadurru ma'asmihi shay'un fil-ardi wa laa fis-samaa'i wa huwas-samee'ul 'aleem
অর্থ: আল্লাহর নামে — যাঁর নামের সাথে থাকলে আসমান ও জমিনে কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
📖 আবু দাউদ, ৫০৮৮; তিরমিযী, ৩৩৮৮
কখন পড়বেন: সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার পড়লে হঠাৎ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৩ বার সকাল + ৩ বার সন্ধ্যা
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِيناً وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا
Radhitu billaahi rabban wa bil-islaami deenan wa bi-muhammadin sallallaahu 'alayhi wa sallama nabiyya
অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ ﷺ-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করলাম।
📖 আবু দাউদ, ৫০৭২; তিরমিযী, ৩৩৮৯
কখন পড়বেন: সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার। জান্নাত পাওয়ার সন্তুষ্টি অর্জন হয়।
৩ বার সকাল + ৩ বার সন্ধ্যা
🌆 সন্ধ্যার আযকার (মাসাই আযকার)
আসরের পর থেকে মাগরিবের আগে
📌 সন্ধ্যার আযকার: সকালের আযকারগুলোতে 'আসবাহনা'-র জায়গায় 'আমসায়না' এবং 'নুশুর'-এর জায়গায় 'মাসির' ব্যবহার করুন। সব আযকারই সকাল ও সন্ধ্যায় পড়া যায়।
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
Allahumma inni as'alukal-'afwa wal-'aafiyata fid-dunyaa wal-aakhirah
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি দুনিয়া ও আখেরাতে তোমার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাই।
📖 আবু দাউদ, ৫০৭৪; ইবনে মাজাহ, ৩৮৭১
কখন পড়বেন: সকাল ও সন্ধ্যায়। এটি সর্বোত্তম দুআগুলোর মধ্যে একটি।
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ أَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ
Yaa Hayyu yaa Qayyoomu birahmatika astagheethu, aslih lee sha'ni kullahu wa laa takilni ilaa nafsi tarfata 'ayn
অর্থ: হে চিরজীবন্ত! হে চিরপ্রতিষ্ঠিত! তোমার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দাও এবং আমাকে এক নিমিষের জন্যও নিজের উপর ছেড়ে দিও না।
📖 হাকিম, ১/৫৪৫; সহীহুল জামি, ৪৮৮৩
কখন পড়বেন: সকাল ও সন্ধ্যায়। বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতিতে।
📿 নামাজের পরের তাসবীহ
প্রতি ফরয নামাজের পর
سُبْحَانَ اللهِ × ৩৩ | اَلْحَمْدُ لِلَّهِ × ৩৩ | اللهُ أَكْبَرُ × ৩৩ | لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
Subhanallah (33x) | Alhamdulillah (33x) | Allahu Akbar (33x) | Laa ilaaha illallaahu wahdahu laa shareekalah, lahul mulku walahul hamdu wa huwa 'alaa kulli shay'in qadeer (1x)
সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার + আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার + আল্লাহু আকবার ৩৩ বার + শেষে কালেমা তাইয়্যেবা।
📖 সহীহ মুসলিম, ৫৯৭
কখন পড়বেন: প্রতিটি ফরয নামাজ শেষ করার পর। এতে গুনাহ মাফ হয় যদিও সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।
৩৩+৩৩+৩৩+১ = ১০০
বিশেষ মুহূর্ত ও দুআ কবুলের সর্বোত্তম সময়

কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্ত আছে যখন দুআ বিশেষভাবে কবুল হয় — সেগুলো জেনে সেই সময়গুলো কাজে লাগানো উচিত।

🌙
শেষ রাত (তাহাজ্জুদ)
রাতের শেষ তৃতীয়াংশ — আল্লাহ নিচের আসমানে নেমে আসেন
🕌
জুমার দিন
আসর থেকে মাগরিবের মাঝখানে বিশেষ একটি মুহূর্ত
🌅
ফজরের পরে
সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত ইস্তিগফার ও দুআ
🙏
সেজদার মধ্যে
বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে থাকে সেজদায়
📢
আযান ও ইকামতের মাঝে
এই মুহূর্তের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
🌙
লাইলাতুল কদর
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এক রাত
🌙
ইফতারের সময়
রোজাদারের ইফতারের সময়ের দুআ কবুল হয়
বৃষ্টির সময়
বৃষ্টি নামার সময় দুআ কবুল হয়
🐪
আরাফাতের দিন
যিলহাজ্জের ৯ তারিখ সর্বোত্তম দিন
🤲
ফরয নামাজের পর
প্রতিটি ফরয নামাজের পরে দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
🌙 লাইলাতুল কদরের দুআ
রমাদানের শেষ ১০ রাতে
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
Allahumma innaka 'afuwwun kareemun tuhibbul 'afwa fa'fu 'anni
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি মহান ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা ভালোবাসো, তাই আমাকে ক্ষমা করো।
📖 তিরমিযী, ৩৫১৩; ইবনে মাজাহ, ৩৮৫০ — আয়িশা (রা.) কে রাসুল ﷺ শিখিয়েছেন
কখন পড়বেন: রমাদানের শেষ ১০ রাতে বেশি বেশি পড়ুন।
🕌 জুমার দিনের দুআ ও আমল
প্রতি শুক্রবার
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
Allahumma salli 'alaa Muhammadin wa 'alaa aali Muhammad, kamaa sallayta 'alaa Ibraahim wa 'alaa aali Ibrahim, innaka hameedun majeed
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করো, যেমন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারের উপর করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত মহিমান্বিত।
📖 সহীহ বুখারী, ৩৩৭০
কখন পড়বেন: জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পড়ুন। বিশেষত আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।
যত বেশি পারুন, বিশেষত জুমার দিন
📌 জুমার দিনের বিশেষ আমল: সূরা কাহফ পাঠ, বেশি বেশি দরুদ, ফজর ও আসরের নামাজে বিশেষ মনোযোগ, গোসল ও পবিত্রতা অর্জন।
🌃 তাহাজ্জুদের দুআ
রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُوْرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ
Allahumma lakal hamdu anta noorus-samaawaati wal-ardi wa man feehinna, wa lakal hamdu anta qayyimus-samaawaati wal-ardi wa man feehinna
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমারই প্রশংসা, তুমি আসমান ও জমিন এবং তাতে যা আছে সবকিছুর আলো। তোমারই প্রশংসা, তুমি আসমান ও জমিন এবং তাতে যা আছে সবকিছুর পরিচালক।
📖 সহীহ বুখারী, ১১২০ — রাসুল ﷺ তাহাজ্জুদে এই দুআ পড়তেন
কখন পড়বেন: তাহাজ্জুদের নামাজ শুরুর আগে এই দুআ পড়ুন।
🤔 সালাতুল ইস্তিখারার দুআ
কোনো সিদ্ধান্তে আগে
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَآ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَآ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ
Allahumma inni astakheeruka bi'ilmika, wa astaqdiruka biqudratika, wa as'aluka min fadlikal-'azeem. Fa'innaka taqdiru wa laa aqdiru, wa ta'lamu wa laa a'lamu, wa anta 'allaamul ghuyoob.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের মাধ্যমে তোমার কাছে কল্যাণ চাই, তোমার শক্তির মাধ্যমে শক্তি চাই এবং তোমার মহান অনুগ্রহ চাই। তুমি সক্ষম, আমি অক্ষম। তুমি জানো, আমি জানি না। তুমি গায়েবের জ্ঞাতা।
📖 সহীহ বুখারী, ১১৬২
কখন পড়বেন: কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ২ রাকাত নফল পড়ে এই দুআ করুন। তারপর মনের যে দিকে ঝুঁকি সেটাই কল্যাণকর।
🤲 পরিস্থিতি অনুযায়ী দুআ সমূহ

বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি, রোগ-শোক, মানসিক চাপ, আর্থিক সংকট সহ নানা অবস্থায় কোন দুআ পড়বেন:

😔 দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির দুআ
উদ্বেগ ও মানসিক চাপে
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ عَبْدُكَ ابْنُ عَبْدِكَ ابْنُ أَمَتِكَ نَاصِيَتِيْ بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِيْ كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَداً مِنْ خَلْقِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِيْ عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِيْ وَنُوْرَ صَدْرِيْ وَجَلَاءَ حُزْنِيْ وَذَهَابَ هَمِّيْ
Allahumma inni 'abduka ibnu 'abdika ibnu amatika naasiyati biyadika maadhun fiyya hukmuka, 'adlun fiyya qadaa'uk. As'aluka bikulli ismin huwa laka sammayta bihi nafsaka aw anzaltahu fi kitaabika aw 'allamtahu ahadan min khalqika awis-ta'tharta bihi fi 'ilmil-ghaybi 'indaka an taj'alal-Qur'aana rabee'a qalbi wa noora sadri wa jalaa'a huzni wa dhahaba hammi.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দা, তোমার বান্দার পুত্র, তোমার বাঁদির পুত্র। আমার কপাল তোমার হাতে। আমার উপর তোমার ফয়সালা চলছে, আমার উপর তোমার বিধান ন্যায়সংগত। আমি তোমার প্রতিটি নামের মাধ্যমে চাই — যা তুমি নিজে রেখেছ বা কিতাবে নাজিল করেছ বা কাউকে শিখিয়েছ বা গায়েবে রেখে দিয়েছ — কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত, বুকের আলো, দুঃখ দূরকারী এবং উদ্বেগ নিবারক করে দাও।
📖 মুসনাদ আহমাদ, ৩৭০৪; ইবনে হিব্বান, ৯৭২ — সহীহ
কখন পড়বেন: মনে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি বা উদ্বেগ অনুভব করলে।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
Laa ilaaha illallaahul-'azeemul-haleem, laa ilaaha illallaahu rabbul-'arshil-'azeem, laa ilaaha illallaahu rabbus-samawaati wa rabbul-ardi wa rabbul-'arshil-kareem
অর্থ: আল্লাহ মহান, ধৈর্যশীল ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। মহান আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আসমান, জমিন ও মহিমান্বিত আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
📖 সহীহ বুখারী, ৬৩৪৬; সহীহ মুসলিম, ২৭৩০
কখন পড়বেন: কঠিন পরিস্থিতিতে, মানসিক চাপে।
🤒 অসুস্থতার দুআ
নিজের বা অন্যের অসুস্থতায়
اَللّٰهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِيْ لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَّا يُغَادِرُ سَقَماً
Allahumma rabban-naasi adhhibil ba'sa, ishfi antash-shaafi, laa shifaa'a illaa shifaa'uka shifaa'al laa yughaadiru saqama
অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের রব! কষ্ট দূর করো। সুস্থ করো — তুমিই সুস্থকারী। তোমার শিফা ছাড়া কোনো শিফা নেই। এমন শিফা দাও যা কোনো রোগ রেখে যায় না।
📖 সহীহ বুখারী, ৫৭৪৩; সহীহ মুসলিম, ২১৯১
কখন পড়বেন: অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে হাত রেখে ৭ বার পড়ুন। নিজের জন্যও পড়া যায়।
৭ বার
بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ
Bismillahi arqeeka min kulli shay'in yu'zeeka, min sharri kulli nafsin aw 'aynin haasid. Allaahu yashfeek. Bismillahi arqeek.
অর্থ: আল্লাহর নামে তোমাকে ঝাড়ফুঁক করি — প্রতিটি কষ্টদায়ক বস্তু থেকে, প্রতিটি বদমনুষ্য ও হিংসুকের কুনজর থেকে। আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করুন।
📖 সহীহ মুসলিম, ২১৮৬
কখন পড়বেন: কেউ অসুস্থ হলে তার উপর ৩ বার পড়ে ফুঁ দিন।
৩ বার
💰 ঋণ ও আর্থিক সংকটের দুআ
ঋণ, আর্থিক সমস্যায়
اَللّٰهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِيْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
Allaahummak-finee bihalaalika 'an haraamika wa aghnini bifadlika 'amman siwaak
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার হালাল দিয়ে আমাকে হারাম থেকে বাঁচাও এবং তোমার অনুগ্রহ দিয়ে তোমার ছাড়া অন্যের থেকে বেনিয়াজ করো।
📖 তিরমিযী, ৩৫৬৩ — সহীহ
কখন পড়বেন: আর্থিক সংকটে, ঋণের ভারে, সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত পড়ুন।
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
Allahumma inni a'udhu bika minal-hammi wal-hazan, wa a'udhu bika minal-'ajzi wal-kasal, wa a'udhu bika minal-jubni wal-bukhl, wa a'udhu bika min ghalabatid-dayni wa qahrir-rijaal
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও বিষাদ থেকে তোমার আশ্রয় চাই। অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাই। কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাই। ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে আশ্রয় চাই।
📖 সহীহ বুখারী, ২৮৯৩
কখন পড়বেন: সকালে ও সন্ধ্যায় নিয়মিত পড়ুন।
💍 বিয়ে ও সুসঙ্গীর জন্য দুআ
বিবাহের জন্য
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
Rabbana hablana min azwaajina wa dhurriyyaatina qurrata a'yunin waj'alnaa lil-muttaqeena imaama
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে আমাদের চক্ষু শীতলকারী (সুখ) দান করো এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।
📖 সূরা আল-ফুরকান ২৫:৭৪
কখন পড়বেন: নেক স্বামী/স্ত্রী পেতে, সুখী সংসারের জন্য।
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْ أَهْلِنَا وَبَارِكْ لَهُمْ فِيْنَا
Allahumma baarik lanaa fi ahlinaa wa baarik lahum feena
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের পরিবারে বরকত দাও এবং আমাদের জন্য তাদের মধ্যে বরকত দাও।
📖 আবু দাউদ, ২১৬০
কখন পড়বেন: বিয়ের পর নববধূকে দেখে পড়ুন।
👶 সন্তান লাভের দুআ
সন্তান কামনায়
رَبِّ هَبْ لِيْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
Rabbi hablii mil-ladunka dhurriyyatan tayyibah, innaka samee'ud-du'aa
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে তোমার কাছ থেকে পবিত্র সন্তান দান করো। নিশ্চয়ই তুমি দুআ শ্রবণকারী।
📖 সূরা আলে ইমরান ৩:৩৮ — যাকারিয়া (আ.)-এর দুআ
কখন পড়বেন: সন্তান লাভের জন্য। বিশেষত তাহাজ্জুদের নামাজের পর পড়ুন।
📚 জ্ঞান ও পরীক্ষার দুআ
পড়াশুনা ও পরীক্ষায়
رَبِّ زِدْنِيْ عِلْمًا
Rabbi zidni 'ilma
অর্থ: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো।
📖 সূরা ত্বহা ২০:১১৪
কখন পড়বেন: পড়াশুনার আগে বা যেকোনো সময়।
اَللّٰهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلاً وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلاً
Allahumma laa sahla illaa maa ja'altahu sahlaa, wa anta taj'alul hazna idhaa shi'ta sahlaa
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি যা সহজ করে দাও তা ছাড়া কোনো কিছু সহজ নয়। তুমি চাইলে কঠিনকেও সহজ করে দিতে পারো।
📖 ইবনে হিব্বান, সহীহ সূত্রে
কখন পড়বেন: পরীক্ষার আগে, কঠিন কাজে, সমস্যা সমাধানে।
👁️ বদনজর ও হিংসা থেকে রক্ষার দুআ
বদনজর থেকে সুরক্ষায়
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
A'udhu bikalimaatillaahit-taammati min kulli shaytaanin wa haammatin wa min kulli 'aynin laammah
অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহ দ্বারা প্রতিটি শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রতিটি ক্ষতিকর দৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাই।
📖 সহীহ বুখারী, ৩৩৭১ — হাসান ও হুসাইনের জন্য রাসুল ﷺ পড়তেন
কখন পড়বেন: সন্তান ও নিজের জন্য বদনজর থেকে বাঁচতে।
সকাল ও সন্ধ্যায়
🕊️ ক্ষমা প্রার্থনার দুআ (ইস্তিগফার)
যেকোনো সময়
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
Astaghfirullahal-'azeemul-lazi laa ilaaha illaa huwal-hayyul-qayyoomu wa atoobu ilayh
অর্থ: আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই — যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরজীবন্ত ও চিরপ্রতিষ্ঠিত — এবং তাঁর কাছে তওবা করি।
📖 তিরমিযী, ৩৫৭৭ — এটি পড়লে গুনাহ মাফ হয় যদিও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বড় গুনাহ হয়
কখন পড়বেন: যেকোনো গুনাহের পর, ঘুমানোর আগে, যেকোনো সময়।
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
Rabbigh-fir lee wa tub 'alayya innaka antat-tawwaabur-raheem
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে মাফ করো এবং আমার তওবা কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
📖 তিরমিযী, ৩৪৩৪ — রাসুল ﷺ একটি মজলিসে ১০০ বার এই দুআ পড়তেন
কখন পড়বেন: নামাজের পরে বা যেকোনো সময়।
১০০ বার
👨‍👩‍👧 পিতামাতার জন্য দুআ
মাতাপিতার জন্য
رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
Rabbanagh-fir lee wa liwaalidayya wa lil-mu'mineena yawma yaqoomul-hisaab
অর্থ: হে আমাদের রব! হিসাবের দিন আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং মুমিনদের মাফ করো।
📖 সূরা ইবরাহীম ১৪:৪১
কখন পড়বেন: প্রতিদিন পিতামাতার জন্য পড়ুন, বিশেষত তারা মৃত হলে।
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِيْ صَغِيْرًا
Rabbir-hamhumaa kamaa rabbayaani sagheeraa
অর্থ: হে আমার রব! তাদের উপর দয়া করো যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে।
📖 সূরা আল-ইসরা ১৭:২৪
কখন পড়বেন: প্রতিদিন পিতামাতার জন্য পড়ুন।
😤 জুলুম ও অত্যাচারের মুখে দুআ
মজলুম অবস্থায়
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
Hasbunallaahu wa ni'mal-wakeel
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কার্যনির্বাহক।
📖 সূরা আলে ইমরান ৩:১৭৩ — ইবরাহীম (আ.) আগুনে যাওয়ার সময় পড়েছিলেন
কখন পড়বেন: অত্যাচার, ভয় ও সংকটের সময়।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَشْكُو إِلَيْكَ ضَعْفِي وَقِلَّةَ حِيلَتِي وَهَوَانِي عَلَى النَّاسِ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
Allahumma inni ashku ilayka da'fi wa qillata heelatee wa hawani 'alan-naas. Yaa arhamar-raahimeen
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার দুর্বলতা, অসহায়ত্ব এবং মানুষের কাছে আমার অপমানের অভিযোগ করছি। হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!
📖 তায়েফ সফরে রাসুল ﷺ পড়েছিলেন — সহীহ সূত্রে বর্ণিত
কখন পড়বেন: সম্পূর্ণ অসহায় অনুভব করলে।
✨ আমল কবুলের দুআ
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
Rabbana taqabbal minnaa innaka antas-samee'ul 'aleem
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের থেকে (ইবাদত) কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
📖 সূরা আল-বাকারা ২:১২৭ — ইবরাহীম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) কাবা নির্মাণের সময় পড়েছিলেন
কখন পড়বেন: যেকোনো ইবাদত, নামাজ, সদকা, রোজা শেষে।
🛡️ ইসলামিক রুকাইয়া

রুকাইয়া (রুকইয়াহ) হলো কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নামসমূহ এবং সহীহ দুআর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ও শারীরিক চিকিৎসা।

📖 রুকাইয়ার ইসলামিক দলীল
"আমি কুরআনে মু'মিনদের জন্য যা নাজিল করি তা শিফা এবং রহমত।"
📖 সূরা আল-ইসরা ১৭:৮২
📜 রুকাইয়ার হাদীসভিত্তিক দলীল
  • রাসুল ﷺ রুকাইয়া করেছেন:
    আয়িশা (রা.) বলেন: রাসুল ﷺ পরিবারবর্গের উপর রুকাইয়া করতেন।
    📖 সহীহ বুখারী, ৫৭৩৮
  • সুরা ফাতিহা দিয়ে রুকাইয়া:
    সাহাবীরা সুরা ফাতিহা পড়ে একজনকে সুস্থ করেন। শুনে নবি ﷺ বলেন: "তোমার কিভাবে জানা হলো যে ফাতিহা রুকাইয়া?"
    📖 সহীহ বুখারী, ২২৭৬
  • শির্কমুক্ত রুকাইয়া বৈধ:
    আউফ ইবন মালিক (রা.) বলেন: "যে রুকাইয়াতে শির্ক নেই, তা বৈধ।"
    📖 সহীহ মুসলিম, ২২০০
  • বদনজর থেকে রুকাইয়া:
    রাসুল ﷺ হাসান ও হুসাইনের ওপর রুকাইয়া পড়তেন।
    📖 সহীহ বুখারী, ৩৩৭১
📋 রুকাইয়া করার সুন্নত পদ্ধতি
পবিত্রতা অর্জন: পরিষ্কার ঘরে ওযু করে পবিত্র অবস্থায় রুকাইয়া করুন।
সঠিক নিয়্যাত: কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, শিফার আশায় শুরু করুন।
বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" বলে শুরু করুন।
কুরআনের আয়াত পাঠ: সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ুন।
নিজে বা অসুস্থ ব্যক্তির উপর ফুঁ দেওয়া: হাতে বা সরাসরি ফুঁ দিন। পানিতে পড়ে পান করানো যায়।
নিজের শরীরে হাত বুলানো: আয়িশা (রা.) রাসুল ﷺ-এর হাত ধরে তাঁর শরীরে বুলিয়ে দিতেন। (সহীহ বুখারী, ৫০১৬)
নিয়মিত করুন: একবারে ফলাফল না পেলে হতাশ না হয়ে নিয়মিত চালিয়ে যান। বিশ্বাস ও ধৈর্য জরুরি।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: রুকাইয়া কখনো শির্কমুক্ত হতে হবে। কবর পূজা, তাবিজে কুফরি কথা বা অজানা ভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ। বৈধ রুকাইয়া শুধুমাত্র কুরআন, সহীহ দুআ ও আল্লাহর নামসমূহ দিয়ে।
🔗 রুকাইয়া সেশন ও গাইড

Noor Application-এ প্রখ্যাত আলেমদের কুরআন তিলাওয়াত (রুকাইয়া) সেশনের অডিও রাখা হয়েছে। বিস্তারিত গাইড ও অডিও রুকাইয়া সেশনের জন্য ভিজিট করুন।

🔗 Noor App — রুকাইয়া সেশন
📿 রুকাইয়ার কুরআনি আয়াত ও যিকর

এই আয়াতগুলো রুকাইয়া, সুরক্ষা, শিফা ও আধ্যাত্মিক শক্তির জন্য কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

📖 সূরা আল-ফাতিহা (সম্পূর্ণ)
সর্বোত্তম রুকাইয়া৭ আয়াত
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۝ اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ۝ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ۝ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ۝ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ ۝ اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ۝ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
অর্থ: আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত জগতের রব। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিনের মালিক। আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ দেখাও — যাদের তুমি নিয়ামত দিয়েছ তাদের পথ, যাদের উপর ক্রোধ হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়।
📖 সূরা আল-ফাতিহা ১:১-৭ | সহীহ বুখারী, ২২৭৬
কখন পড়বেন: রুকাইয়া শুরুতে ৭ বার পড়ুন। যেকোনো রোগে কার্যকর।
৭ বার (রুকাইয়ার জন্য)
👑 আয়াতুল কুরসী
কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াতশয়তান থেকে সুরক্ষা
اللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ — তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরজীবন্ত, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা আছে সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কে তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তিনি তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে সব জানেন। তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমান ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করেছে। এ দুটো রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।
📖 সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫ | সহীহ বুখারী, ২৩১১
কখন পড়বেন: প্রতি নামাজের পরে ১ বার — জান্নাত নিশ্চিত হয়। ঘুমানোর আগে — সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে সুরক্ষিত। রুকাইয়ায় — ৩ বার।
প্রতি ফরযের পর ১ বার | ঘুমানোর আগে ১ বার
📖 সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত
রাতের সুরক্ষা
ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ ۝ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ
📖 সূরা আল-বাকারা ২:২৮৫-২৮৬ | সহীহ বুখারী, ৫০০৮
কখন পড়বেন: রাতে ঘুমানোর আগে — এই দুই আয়াত যথেষ্ট। রুকাইয়ায়।
রাতে ঘুমানোর আগে
🛡️ মুআওয়িযাতান (সূরা ফালাক ও নাস)
সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۝ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۝ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۝ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِى الْعُقَدِ ۝ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই ভোরের রবের কাছে — তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, গিরায় ফুঁকদানকারীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের হিংসার অনিষ্ট থেকে।
📖 সূরা আল-ফালাক ১১৩:১-৫ | সহীহ বুখারী, ৫০১৭
কখন পড়বেন: সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার। ঘুমানোর আগে ৩ বার। রুকাইয়ায়।
৩ বার সকাল + ৩ বার সন্ধ্যা + ৩ বার রাতে
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۝ مَلِكِ النَّاسِ ۝ إِلَٰهِ النَّاسِ ۝ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۝ الَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ النَّاسِ ۝ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের বাদশাহর কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে — ওয়াসওয়াসা দানকারী পশ্চাৎসরণকারী শয়তানের অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের বুকে কুমন্ত্রণা দেয় — জিন ও মানুষ উভয় থেকে।
📖 সূরা আন-নাস ১১৪:১-৬
কখন পড়বেন: সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতে ৩ বার করে পড়ুন।
৩ বার
💎 সূরা আল-ইখলাস
কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۝ اللَّهُ الصَّمَدُ ۝ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ
অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি জন্ম দেননি এবং জন্মও নেননি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
📖 সূরা আল-ইখলাস ১১২:১-৪ | সহীহ বুখারী, ৫০১৫
কখন পড়বেন: সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার — পুরো কুরআন খতমের সওয়াব পাওয়া যায়। রুকাইয়ায়।
৩ বার সকাল + ৩ বার সন্ধ্যা
📖 সূরা বাকারার প্রথম ৫ আয়াত ও আয়াত ১৬৩-১৬৪
জিন বিতাড়নে কার্যকর
وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ
অর্থ: তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
📖 সূরা আল-বাকারা ২:১৬৩
কখন পড়বেন: রুকাইয়া সেশনে সূরা বাকারার প্রথম ৫ আয়াত, আয়াতুল কুরসী, ২৮৫-২৮৬ আয়াত পড়ুন।
📌 সূরা বাকারার ফযিলত: "যে ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয় সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।" — সহীহ মুসলিম, ৭৮০
🎯 সম্পূর্ণ রুকাইয়া সিকোয়েন্স

নিচের ক্রমে পড়লে একটি সম্পূর্ণ রুকাইয়া সেশন হবে:

  1. বিসমিল্লাহ + ওযু
  2. সূরা ফাতিহা — ৭ বার
  3. আয়াতুল কুরসী — ৩ বার
  4. সূরা বাকারা ১-৫ + ২৮৫-২৮৬
  5. সূরা ইখলাস — ৩ বার
  6. সূরা ফালাক — ৩ বার
  7. সূরা নাস — ৩ বার
  8. দুআ: اَللّٰهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ... — ৭ বার
  9. নিজের বা রোগীর শরীরে হাত বুলিয়ে দিন
প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় করুন